13/12/2022
একটি টকজাতীয় ফল হিসেবে অনেকের কাছেই বেশ পছন্দের হল তেঁতুল। তেঁতুলের নাম শুনলেই জিভে জল আসে না এমন মানুষের সংখ্যা কম। এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং হৃদরোগ ও অন্যান্য রোগে খুব উপকারী। অনেকেই মনে করে তেঁতুল মস্তিষ্ক, যৌন জীবনের ক্ষতি করে। কিন্তু আসলে এই ধারণাটি ঠিক নয়। তেঁতুল মস্তিষ্কের জন্য ভালো। রোদ্দুর থেকে ঘুরে এসে তেঁতুলের টক-মিষ্টি সরবত খেতে পারেন, আরাম পাবেন। তেঁতুল শুধুমাত্র আমরা শুধু যে ফল হিসেবে খাই তা কিন্তু নয়। বরং তেঁতুল আমাদের শরীরে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা সমাধানে, বেশ উপকার সাধন করে।
তেঁতুলের উপকারিতা –
প্রতিদিন নিয়মিত তেঁতুল খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায় তার কিছু নিম্নে বর্ণনা করা হল:
Ø তেঁতুল হজমে সাহায্য করে।
Ø তেঁতুল রক্ত পরিষ্কার করে।
Ø তেঁতুল শরীরের ত্বকের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ও ত্বক ভাল রাখে।
Ø তেঁতুল ক্ষুধা বাড়ায় ।
Ø স্কার্ভি রোগের প্রতিরোধ
Ø খাবারে রুচি বাড়ায়।
Ø তেঁতুলের টক উপাদান গর্ভবতী নারীদের মর্নিং সিকনেস থেকে অনেকটাই মুক্তি দেয়। গর্ভাবস্থায় তেঁতুল খাওয়া নিরাপদ বলেই প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।
Ø তেঁতুলের সঙ্গে রসুনবাঁটা মিশিয়ে খেলে রক্তের চর্বি কমেএর পাতার রসের শরবত সর্দি-কাশি, পাইলস ও প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া কমায়।
Ø পেট ফাঁপা, বদহজম হলে পুরোনো তেঁতুল এক কাপ জলে ভিজিয়ে সামান্য নুন, চিনি বা গুড় দিয়ে খেলে অসুবিধা দূর হয়
Ø তেঁতুল হার্ট ভালো রাখে।
Ø তেঁতুল রক্তে কোলেস্টেরল কমায়। দেহে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
Ø তেঁতুলের পাতা বেঁটে মরিচ ও সামান্য নুন দিয়ে মেখে বড়া তৈরি করে পান্তাভাতে খেলে অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি হয়।
Ø শিশুদের পেটের কৃমি কমায়।
Ø পাইলসের জন্য উপকারী।
Ø গর্ভাবস্থায় বমি ভাব দূর করে।
Ø এতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সব ফলের চেয়ে প্রায় ৫ থেকে ১৭ গুণ বেশি।
Ø বাতের ব্যথা বা জয়েন্টে ব্যথা কমায়।
Ø ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি থেকে রেহাই পেতে গরম পানিতে তেঁতুল ও গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে দারুণ উপকার মেলে।
Ø তেঁতুল ডায়াবেটিস কমায়।
Ø তেঁতুল এন্টিঅক্সিডেন্টের একটি ভাল উৎস যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ।
Ø ওজন কমাতে দারুণ কাজ করে
Ø তেঁতুল জন্ডিস রোগে উপকারী।
Ø তেঁতুল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
Ø তেঁতুল পাতার রস কৃমিনাশক ও চোখ ওঠা সারায়।
Ø আয়রনের পরিমাণ নারকেল ছাড়া বাকি সব ফলের চেয়ে ৫ থেকে ২০ গুণ বেশি।
Ø মুখের ঘা ও ত্বকের প্রদাহ সারাতে সাহায্য করে।
Ø বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি কেউ প্রতি দিন নিয়মিত এক ঘণ্টা দ্রুত হাঁটে ও কমপক্ষে ২৫ গ্রাম করে তেঁতুল খায়, তা হলে হার্ট ব্লক হতে পারে না।
Ø তেঁতুল ত্বকের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ও ত্বক ভাল রাখে।
Ø তেঁতুলের মধ্যে থাকা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, যা খাবার থেকে আয়রন সংগ্রহ করে বিভিন্ন কোষে তা পরিবহণ করে।
Ø আয়রনের সঠিক পরিমাণ মস্তিষ্কে পৌঁছলে চিন্তা ভাবনার গতি আগের থেকে অনেক বেশি বেড়ে যায়।
Ø তেঁতুলে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন, আঁশ, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান বিদ্যমান।