22/11/2021
💕গল্পঃ সিনিয়র বউ🤭
#পর্ব_০২
💕
💕
অবশেষে আসলো, মহারানীকে দেখেই আমি তো পুরা টাস্কি খেয়ে গেলাম।
আরে এটাতো মিথিলা আপু।
যার পিছনে পিছনে আমি এতোদিন ঘুরাঘুরি করেছি। তারমানে মিথিলা রাবেয়া আন্টির মেয়ে। আহ! মিথিলা আমার বউ হবে। এ যেন মেঘ না চাইতে বৃষ্টি পাওয়ার মতো।
যাইহোক মিথিলা একটা শাড়ী পড়ে এসেছে, দেখেই আমি হা করে ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম।
আমার এমন হা করে তাকিয়ে থাকা দেখে আম্মু আমাকে একটা টোকা দিলো, তারপর বাস্তবে ফিরে আসলাম।
মিথিলা এসে আমাকে চা দিলো, আমার মনের ভিতর তো তখন লাড্ডু ফুটছে। বিদ্যা বালানের গানটা মনের ভিতর বাজতেছে
"উলালা উলালা তুহি মেরেই ফ্যান্টাসি ""
মিথিলা এসে আম্মু সালাম দিয়ে ভিতরে চলে গেলো। আমিও সোফায় বসে রইলাম।
আম্মু অনেকক্ষণ রাবেয়া আন্টির সাথে বসে বসে গল্প করলো। তারপর বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করে বাসায় চলে আসলাম।
বাসায় এসে আমি সানি আর আয়মানকে গ্রুপ কল দিলাম....
আমিঃ এই হারামীর দল কোথায় তোরা?
আয়মানঃ কেন কি হইছে?
আমিঃ সেটা পরে বলবো, তাড়াতাড়ি রেস্টুরেন্টে আয়, তোদের ট্রিট দিবো।
ট্রিটের কথা শুনে দুজনেই লেজ উঠিয়ে চলে আসলো। সন্ধ্যায় ওদের সাথে রেস্টুরেন্ট এ গেলাম।
সানিঃ মামা ঘটনা কি হঠাৎ করে ট্রিট!
আমিঃ দোস্ত কাম তো হয়ে গেছে।
আয়মানঃ কি মেয়ে পছন্দ হইছে নাকি?
আমিঃ হুম, ঠিক বলছিস।
সানিঃ তুই না বললি এই বিয়েটা তুই করবি না।
আমিঃ আরে সেটাতো আগে বলেছিলাম। কিন্তু পাত্রি দেখার পর সব ঠিক হয়ে গেছে।
আয়মানঃ তা পাত্রী টা কে?
আমিঃ তোদের মিথিলা আপু!
সানিঃ আমাকে ক্যাম্পাসের মিথিলা আপু নাকি? যার জন্য তুই কুত্তার মতো পিছন পিছন হাটতি।
আমিঃ এই সালারপুর চুপ কর, আমি কারো পিছনে ঘুরি নাই। আর হে সেই মিথিলাই আম্মুর বান্ধবীর মেয়ে।
আয়মানঃ সিরিয়াসলি! দোস্ত এই তো মেঘ না চাইতে বৃষ্টি আসার মতো।
আমিঃ হুম, আজকে যা ইচ্ছা খেয়ে নে। টাকা আমি দিমু।
সানিঃ তো বিয়ে কখন?
আমিঃ আগামী শুক্রবার। কালকে থেকে কেনাকাটা শুরু, তোরা কেউ আর ক্লাসে যাস না এই সপ্তাহ। কাজ আছে,,
এরপর ওদের ট্রিট দিয়ে বাসায় চলে আসলাম। কিছুতেই ঘুম আসছে না, ভাবছি মিথিলাকে কল দিয়ে কিছুক্ষণ প্রেম করবো।
না থাক বিয়ের পর চুটিয়ে প্রেম করা যাবে, এই কয়েকদিন একটু পার্ট নিয়ে থাকি।
পরের দিন সবাই মিলে কেনাকাটা শেষ করলাম। আস্তে আস্তে বাসায় মেহমান আসতে শুরু করছে। আম্মু সবাইকে ইনভাইট করে দিছে।
দেখতে দেখতে বিয়ের দিন চলে আসলো, সবাই অনেক ব্যস্ত। আমিও মোটামুটি ব্যস্ত ছিলাম।
অবশেষেঃ বিয়েটা হয়ে গেলো, আমি সানি আর আয়মান ছাদে বসে বসে গল্প করছি। এদিকে মিথিলা বাসরঘরে বসে আমার জন্য ওয়েট করছে।
আমার তো আর এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে ইচ্ছা করছে না, কিন্তু ২ হারামী আমাকে যেতে দিচ্ছে না।
রাত প্রায় ১২.০০ টা, আমি তখনও ছাদে বসে বসে আড্ডা দিচ্ছি এমন সময় আম্মু আসলো....
আম্মুঃ কিরে তুই এখনো বসে আছিস যে?
আমিঃ তো কি করবো?
আম্মুঃ কি করবি মানে? যা ঘরে যা। মেয়েটা সেই কখন থেকে একা একা বসে আছে।
সানিঃ আন্টি আমরা ও কে অনেক বার বলেছি কিন্তু ও আমাদের কথা শুনছে না। (পুরোটা মিথ্যা)
আমি সানির কথা শুনে ওর দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকালাম, তখন আম্মু বললো...
আম্মুঃ যা তাড়াতাড়ি ঘরে যা।
আমিঃ ঠিক আছে যাচ্ছি। তুমি নিচে যাও।
একটুপর আম্মু চলে গেলো, আমি সানিকে একটা লাথি দিয়ে বললাম....
আমিঃ এই হারামখোর তুই আমাকে অনেক যেতে বলেছিস? শালা তোর জন্য আমি যেতে পারছিনা আর তুই বলছিস আমাকে যেতে বলেছিস।
সানিঃ আরে মামা রাগ করস কেন? আন্টি একটু পাম দিলাম আরকি।
আয়মানঃ আচ্ছা ঠিক আছে তুই যা।
আমিঃ ওকে যাচ্ছি। দোয়া করিস।
সানিঃ এই শোন,,,
আমিঃ হুম বল।
সানিঃ মনে বিড়াল মারিস, তোর ক্ষমতা দেখিয়ে দিবি। নাহলে পুরুষ জাতি তোরে ধিক্কার দিবে।
আমিঃ চুপ কর, আমি যাচ্ছি।
সানিঃ আচ্ছা ঠিক আছে যা। যদি বেঁচে থাকিস তাহলে কাল দেখা হবে।
আমি একটা হাসি দিয়ে নিচে চলে আসলাম।
বাসরঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, কেমন জানি ভয় লাগছে আবার লজ্জাও। আহারে নিজের ঘরে নিজে যাবো আর সেখানেই ভয় লাগছে।
১ কেজি সাহস নিয়ে দরজাটা খুললাম, ভিতরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলাম।
দেখলাম মিথিলা মোবাইলে কার সাথে কথা বলছে, আমাকে দেখেই মোবাইলটা রেখে দিয়ে চোরের মতো হয়ে গেলো। মোবাইলটা রেখে দিলো।
আমি গিয়ে সামনে দাঁড়ালাম, ভাবছি সে হয়তো সালাম করবে, অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর দেখলাম সে এখনো বসে আছে।
আমি মনে করছি আমি তার জুনিয়র তাই হয়তো সালাম করতে লজ্জা লাগছে বা করবে না।
থাক করা লাগবে না, একটা সালাম আর কিছু যায় আসেনা।
আমি গিয়ে খাটের উপর বসলাম, তখন মিথিলা বললো....
মিথিলাঃ তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে।
বাহ! শুরুতেই তুই। আমি বললাম...
আমিঃ কি কথা বলেন।
মিথিলাঃ আমি তোকে স্বামী হিসেবে মানতে পারবো না।
মুহূর্তেই যেন আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যেতে লাগলো, নিজেকে শক্ত করে বললাম....
আমিঃ কেন পারবেন না? আর সে কথা বিয়ের আগে বলেন নি কেন?
মিথিলাঃ বলিনি কারণ আম্মুর কথার উপর আমি কোনো কথা বলতে পারবো না, তাছাড়া বাবা অসুস্থ, এখন যদি আমি বিয়েতে না করি তাহলে বাবা হয়তো আরো বেশি অসুস্থ হয়ে যাবে।
আমিঃ আপনার বাবা মায়ের কথা চিন্তা করে আপনি আমার লাইফটা নষ্ট করে দিলেন কেন? আপনার যদি বিয়েতে মত না থাকতো আপনার বাবা মাকে বলতেন।
মিথিলাঃ বলে কোনো লাভ হবে না, ওরা কিছুতেই আমার কথা শুনবে না।
আমিঃ আমাকে বলতেন, আমি আম্মুকে বলে দিতাম যে আপনাকে আমার পছন্দ হয়নি।
মিথিলাঃ আমি রাসেদকেও অনেক বার বলেছি পালিয়ে যাওয়ার জন্য কিন্তু ও এখন নাকি কিছু করতে পারবে না। কিছুদিন সময় লাগবে।
আমিঃ রাসেদ কে?
মিথিলাঃ আমার বয়ফ্রেন্ড (মাথা নিচু করে)
আমিঃ তো এখন আপনি কি চান?
মিথিলাঃ ডিভোর্স।
কথাটা শুনে বুকের ভিতরটা কেমন জেন কেঁদে উঠলো।
আমিঃ ডিভোর্স তো আর বললেই হয়ে যাবে না, কমপক্ষে ৬ মাস একসাথে থাকতে হবে।
মিথিলাঃ কিহ ৬ মাস! তোকে তো আমার ১ সেকেন্ডও সহ্য হয়না।
আমিঃ ডিভোর্স পেতে হলে ৬ মাস সহ্য করতে হবে।
মিথিলাঃ আচ্ছা ঠিক আছে। আর হে আরেকটা কথা...
আমিঃ কি?
মিথিলাঃ এই ৬ মাস কোনো ভাবেই আমার উপর স্বামীর অধিকার খাটাতে আসবি না।
আমিঃ ওকে। এই ৬ মাস সবার সামনে অন্তত বউ এর মতো থাকবেন। মা যদি জানতে পারে অনেক কষ্ট পাবে। আর আমি মায়ের কষ্ট সহ্য করতে পারি না।
মিথিলাঃ আচ্ছা ঠিক আছে।
তারপর আমি রুম থেকে চলে যাচ্ছি এমন সময় মিথিলা আবার ডাক দিলো....
মিথিলাঃ এই কই যাস?
আমিঃ বাইরে। এখানে থেকে কি করবো?
মিথিলাঃ না তুই বাইরে যাবি না।
আমিঃ কেন?
মিথিলাঃ বাইরে গেলে সবাই সব কিছু বুঝে যাবে।
বাহ বুদ্ধি আছে। এরপর আমি খাটে ঘুমাতে যাবো এমন সময় মিথিলা আবারো চিৎকার দিয়ে ডাক দিলো।
মিথিলাঃ এই কি করছিস?
আমিঃ কেন ঘুমাবো!
মিথিলাঃ তো খাটে কেন?
আমিঃ তাহলে কোথায় ঘুমাবো?
মিথিলাঃ তুই খাটে ঘুমাতে পারবি না। সোফায় ঘুমা,,,
আমিঃ কেন খাটে ঘুমালে সমস্যা কি?
মিথিলাঃ বললাম না, তোকে স্বামিনী হিসেবে মানি না, তাহলে খাটে ঘুমাবি কেন?
আমি আর কিছু না বলে একটা বালিস সোফায় রেখে বারান্দায় চলে গেলাম।
ভাবতে লাগলাম, কোন অপরাধের কারনে আল্লাহ এতো শাস্তি দিচ্ছে আমাকে। বাইরে তাকিয়ে দেখি সবাই ব্যস্ত। বাবুর্চিরা এদিক ওদিক ঘুরছে। আম্মুও সবার সাথে বসে বসে গল্প করছে।
কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে আবার রুমে চলে আসলাম। দেখি মিথিলা কার সাথে মোবাইলে কথা বলছে।
আমাকে দেখে আবার মোবাইল রেখে দিলো। আমি লাইট বন্ধ করে ঘুমাতে যাবো এমন সময় মিথিলা আবারো ডাক দিলো...
মিথিলাঃ কিরে লাইট কেন অফ করছিস?
আমিঃ তো লাইট জ্বালিয়ে কেউ ঘুমায় নাকি?
মিথিলাঃ আমি তোকে বিশ্বাস করতে পারছি না। তুই লাইট দে।
ধুর এই রুমেই থাকবো না।
মিথিলাঃ এই কই যাস?
আমিঃ জাহান্নামে! আপনি তো আমাকে বিশ্বাস করছেন না। এখানে থেকে কি করবো?
মিথিলাঃ আচ্ছা ড্রিম লাইটটা জ্বালিয়ে রাখ।
আমি আর কিছু না বলে ড্রিম লাইট টা জ্বালিয়ে সোফায় ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকালে ঘুম ভাঙ্গলো মিথিলা মায়াবী মুখটা দেখে। আহ! কি সুন্দর লাগছে।
দেখে মনে হচ্ছে নিষ্পাপ একটা শিশু ঘুমিয়ে আছে। হুমায়ন আহমেদ বলেছিলো যে মেয়েকে ঘুমন্ত অবস্থায় সুন্দর দেখায় সেই প্রকৃত সুন্দর।
মিথিলা সেই হুমায়ন আহমেদের অজানা সুন্দীয় নারী।
কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর ওর ঘুমটা ভেঙ্গে যায়।
চলবে.....💕
✍️
Md Abdullah Hossain Shuvo 🥰
নেক্সট পর্ব পেতে কমেন্ট করুন 🥰