11/10/2026
দুই শতাব্দীর কাছাকাছি বয়স।
চোখে ছানি পড়ে এখন প্রায় অন্ধ।
তবু খাবারের গন্ধ পেলে মাথা উঁচু করে লম্বা গলা বাড়িয়ে দেয় সে, নাম- জোনাথন।
১৯৪ বছর বয়সী এই কচ্ছপের জীবন, সময়ের এক জীবন্ত সাক্ষী।
বিশ্বযুদ্ধ থেকে সাম্রাজ্যের উত্থান পতন- সবই দেখেছে সে।
এবার তার দীর্ঘ জীবনের পেছনে থাকা জিনগত ও কোষীয় বৈশিষ্ট্যের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যা- মানুষের বার্ধক্য নিয়ে গবেষণায়ও দিতে পারে নতুন ধারণা।
বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী, সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’এ প্রকাশিত এক গবেষণায়, উঠে এসেছে এসব তথ্য।
বার্তা সংস্থা, রয়টার্স'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- আলদাব্রা জায়ান্ট প্রজাতির জোনাথনকে বিবেচনা করা হচ্ছে, বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক স্থলচর প্রাণী হিসেবে।
১৮৮২ সালে, ভারত মহাসাগরের আলদাব্রা অঞ্চল থেকে পূর্ণবয়স্ক অবস্থায়, তাকে দক্ষিণ আটলান্টিকের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নেয়া হয়।
বর্তমানে গভর্নরের বাসভবন, প্ল্যান্টেশন হাউজ'র ঘেরা আঙিনায় থাকে সে।
গবেষকরা জোনাথনের জিনোম ও এপিজিনোম বিশ্লেষণ করে ডিএনএ মেরামত, কোষের শক্তি উৎপাদন, ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণ ও টেলোমিয়ারের কার্যকারিতা- শনাক্ত করেছেন।
বিশেষ করে জিনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণকারী ডিএনএর কিছু অঞ্চলে, তার মিথিলেশন এনট্রপি পাঁচ বছর বয়সী একটি কচ্ছপ ছাড়া, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত অন্য কচ্ছপগুলোর তুলনায় কম পাওয়া গেছে।
এসব অঞ্চল দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত জিন নিয়ন্ত্রণ করে।
গবেষণায় মাত্র একটি অতিবয়স্ক কচ্ছপ থাকায়, এই বৈশিষ্ট্যগুলো দীর্ঘ জীবনের নিশ্চিত কারণ কি না, তা বলা যাচ্ছে না।
জোনাথনের পরিবেশ, যত্নসহকারে তৈরি খাদ্যতালিকাও ভূমিকা রাখতে পারে তার দীর্ঘজীবনে।
কালেল'র সঙ্গে জড়িত এ গবেষণার সহপ্রধান লেখক, বেঞ্জামিন ভেইসভিল, জানিয়েছেন- ১১৪ বা ১১৭ বছর বয়সী এক নারীর ওপর সম্প্রতি পরিচালিত গবেষণায় অস্বাভাবিকভাবে দক্ষ মাইটোকন্ড্রিয়াল ফাংশন দেখা গেছে, যা জোনাথনের দেহের কিছু অঞ্চলের প্রাপ্ত ফলাফলের সঙ্গে মেলে।
এতে বিভিন্ন প্রজাতির বার্ধক্য প্রক্রিয়ার মধ্যে সাদৃশ্য থাকার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
কচ্ছপটির দীর্ঘকালের চিকিৎসক ও গবেষণাটির সহলেখক, জো হলিন্স'র ভাষায়- বয়সের ভারে দৃষ্টিশক্তি হারালেও খাবারের প্রতি জোনাথনের আগ্রহ কমেনি।
দ্বীপবাসীর কাছে সে দীর্ঘায়ু, সহনশীলতা ও স্থিতিস্থাপকতার প্রতীক।
©️ বিষয়বস্তু আইনের আওতাধীন হতে পারে।
#বিজ্ঞান। By AMiNCO.