পরিপূর্ণ - Fulfill

পরিপূর্ণ - Fulfill Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from পরিপূর্ণ - Fulfill, Design & Fashion, Sylhet.

22/08/2025

নিউইয়র্ক শহরের এক ব্যস্ত হাইস্কুল।
শহরের ভেতরেই যেন আরেক শহর—শব্দ, কোলাহল, আর ক্লান্ত মুখের ভিড়ে বাচ্চারা আসছে স্কুলে।
মিসেস হোয়াইট ছিলেন সেই স্কুলের একজন শিক্ষক—নিবেদিতপ্রাণ, নিয়মানুবর্তী, কিন্তু কিছুটা শীতল স্বভাবের।
তাঁর ক্লাসে একদিন ভর্তি হলো নতুন এক ছাত্র—কালো চামড়ার, হালকা কুঁজো হয়ে হাঁটে, চোখে সবসময় আতঙ্কের ছাপ। নাম—জেরেমি স্টোন।
জেরেমিকে দেখে কেউ বলতো না সে নবম শ্রেণির ছাত্র।
সবসময় তার হাতে ধরা থাকতো একটা পুরনো চামড়ার ব্যাগ। কোনোদিন ব্যাগটা রাখেনি কোথাও, এমনকি টয়লেটে যেতেও হাতে নিয়েই যেত।
ছেলেটা কারও সঙ্গে কথা বলতো না। শিক্ষকরা তাকে উপেক্ষা করতেন, কারণ সে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিত না, এমনকি তাকাতও না শিক্ষকের চোখে।
একদিন মিসেস হোয়াইট ক্লাসে জোরে বলে উঠলেন,
“এই ছেলেটা কি বোবা? উত্তর তো দূরের কথা, নড়াচড়াই করে না ঠিক মতো!”
সবাই হেসে উঠলো। জেরেমির মুখে তখনও একটাই ভঙ্গি—ভয় আর নিরবতা।
পরীক্ষায় তার নম্বর কম, ক্লাসে মনোযোগ নেই। মিসেস হোয়াইট ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দিলেন।
একদিন স্কুলে “ব্যাগ চেকিং” ক্যাম্পেইন শুরু হলো। সবাই ব্যাগ জমা দিচ্ছে, জেরেমির কাছে যেতেই সে আঁকড়ে ধরলো ব্যাগটা।
“না, এটা কেউ নিতে পারবে না!”
তার চোখে একরাশ আতঙ্ক, বুক ধুকপুক করে উঠছে।
হেড টিচার এগিয়ে এলো। বললো, “এভাবে কেউ নিজেকে আলাদা রাখতে পারে না। ব্যাগ দাও।”
জোর করে ব্যাগটা খুলে দেখা গেলো—
একটা ছোট লাঠি, কিছু শুকনো খাবার, একটা মেয়েদের চুলের ক্লিপ, একটা ছোট শিশির বোতল, আর একটা চিঠি…
চিঠিতে লেখা ছিলো—
“জেরেমি, মা হয়তো আর তোমার সাথে স্কুলে যেতে পারবে না। কিন্তু এই ব্যাগের প্রতিটি জিনিসে আমার স্পর্শ আছে। কখনো ভয় পাস না। তুই পারবি, মা বিশ্বাস করে।”
চোখের সামনে এক মুহূর্তে বদলে গেলো সব।
মিসেস হোয়াইটের মুখ নিস্তব্ধ হয়ে গেলো।
হেড টিচার বললেন, “তার মা গৃহহীন ছিলেন। কিছুদিন আগে রাস্তায় শীতে মারা যান। এরপর থেকে ছেলেটা একাই আসে-যায়, এই ব্যাগই তার মায়ের স্মৃতি।”
মিসেস হোয়াইট বাড়ি ফিরে রাতে ঘুমাতে পারলেন না। চোখ বন্ধ করলেই ভেসে উঠছে সেই চিঠির শব্দ—
"তুই পারবি..."
পরদিন স্কুলে তিনি নিজেই খুঁজে বের করলেন জেরেমিকে। পাশে বসালেন, চুপ করে তার হাত ধরলেন।
কিছু বললেন না—শুধু চুপচাপ পাশে বসে থাকলেন।
তারপর ধীরে ধীরে, প্রতিদিন একটু একটু করে তিনি জেরেমিকে পড়ানো শুরু করলেন। প্রশ্ন করতেন না, বরং গল্প বলতেন, তার ব্যাগের জিনিস নিয়ে খেলা করতেন, একদিন বললেন,
“তোর মায়ের চিঠি আমি প্রতিদিন পড়ি...”
জেরেমির মুখে সেই প্রথম একটা ছোট্ট হাসি ফুটলো।
ছয় মাসের মধ্যে বদলে গেলো ছেলেটি।
চুল আঁচড়ে আসে, প্রশ্ন করে, গল্প বলে, বন্ধু জোটে তার।
বছরের শেষে ক্লাস টেস্টে প্রথম পাঁচজনের মধ্যে সে স্থান পায়।..বছরের শেষে বিদায় অনুষ্ঠানে জেরেমি মিসেস হোয়াইটকে একটা ছোট প্যাকেট দিলো।
ভেতরে ছিলো—একটা নতুন চামড়ার ব্যাগ আর তার মায়ের চিঠির একটি প্রতিলিপি।
সাথে লিখেছিলো—
“আজ আমি আবার মা পেয়েছি। আপনি আছেন বলেই আমি হারিয়ে যাইনি…”
মিসেস হোয়াইট সে দিন কাঁদলেন।
কিন্তু তখনও জানতেন না—এই ছেলেটিই একদিন তাঁর জীবনের সবচেয়ে গর্বের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
বছর পেরিয়ে যায়...
শহরের পত্রিকায় একদিন বিশাল শিরোনাম ছাপা হয়—
“ড. জেরেমি স্টোন: গৃহহীন শিশুর জীবন থেকে আমেরিকার সেরা শিশু-মানসিক বিশেষজ্ঞ পর্যন্ত যাত্রা।”
প্রবন্ধে লেখা—
“তিনি আজ হাজারো ট্রমাগ্রস্ত শিশুদের মানসিক চিকিৎসা দেন। নিজের মতোই যারা হারিয়ে ফেলেছে আপনজন, আশ্রয়—তাদের মনে তিনি আশার আলো জ্বালান।”
আর ঠিক তার নিচে, নিজের হাতে লেখা ছোট্ট একটা মন্তব্য ছাপা হয়—
“আমার আজ যা কিছু, তার পেছনে একমাত্র যিনি আছেন—তিনি একজন শিক্ষক।
যিনি শুধু আমাকে পড়াননি, আমাকে ‘মানুষ’ করে তুলেছেন।”তাঁর দেওয়া ব্যাগের নিচে আজও লেখা আছে সেই কথাটা—
“একজন মায়ের শেষ চিঠি আর একজন শিক্ষিকার প্রথম ভালোবাসা—এই ব্যাগেই বেঁচে আছে।”
একদিন ড. জেরেমি নিজেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বললেন,
“আপনারা হয়তো আমাকে মনোবিজ্ঞানী হিসেবে চেনেন।
কিন্তু আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো—
আমি মিসেস হোয়াইট নামের এক শিক্ষিকার ছাত্র ছিলাম।
তিনি যদি সেদিন আমার হাত না ধরতেন, তাহলে আজ আমি হয়তো বেঁচে থাকতাম না।”
মঞ্চের একপাশে বসা বৃদ্ধা শিক্ষিকা তখন কান্নায় চোখ মুছছিলেন।
তার হাতের আঙুলে এখনও সেই পুরনো চামড়ার ব্যাগের ছোট্ট চাবির রিং ঝুলছিল...
শিক্ষকের একটি স্পর্শ, একটি ভালোবাসার চোখ—এটাই পারে অন্ধকার জীবনেও আলো জ্বালাতে।
কারণ শিক্ষকতা পেশা নয়—তা হল আত্মা দিয়ে অন্য কারও জীবন গড়ার ব্রত।
একটি চামড়ার ব্যাগ”
(বিদেশি ঘটনা অবলম্বনে)
Farhana Yasmin

(Collected)

WOOD FIRED
26/05/2023

WOOD FIRED

04/03/2023
19/04/2022

Address

Sylhet

Opening Hours

Monday 09:00 - 19:00
Tuesday 09:00 - 19:00
Wednesday 09:00 - 19:00
Thursday 09:00 - 19:00
Friday 09:00 - 19:00
Saturday 09:00 - 19:00
Sunday 09:00 - 19:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when পরিপূর্ণ - Fulfill posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share