20/03/2014
তানভীর হাসান তানু
ঠাকুরগাঁও, ২০ মার্চ : মিজান, রিজভী-১, রাকিব, রিজভী-২, হানিফ ও মোমিনুল। খুব ভালো বন্ধু তারা। এদের মধ্যে মোমিনুল ছিল বাকি ছয়জনের চেয়ে একটু স্বচ্ছল। তার ছিল একটি মোটরসাইকেল। আর সেই মোটরসাইকেল নিয়ে মাঝে মধ্যেই ঘুরে ফিরতো তারা। তবে মোমিনুলের মোটরসাইকেল নিয়ে বাকি বন্ধুদের খুব হিংসা ছিল। তার অনুপস্থিতিতে বন্ধুরা মোটরসাইকেলটি কিভাবে নিয়ে নেওয়া যায় এই পরিকল্পনায় করতো।
পরিকল্পনা অনুযায়ী মিজান, রিজভী-১, রাকিব, রিজভী-২,হানিফ সিদ্ধান্ত নেয় কোনো একদিন রাতে তারা মোমিনুলকে দাওয়াত করবে। সেই দাওয়াতে মোমিনুল এলে তার মোটরসাইকেলটি কেড়ে নেওয়া হবে।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি মাসের ৭ মার্চ তারা সিদ্ধান্ত নেয় রাতে রিজভীর-১ বাড়িতে আড্ডা দেবে তারা। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি শুরু করে তারা।
অবশেষে এলো ৭ মার্চ। সেদিন ছিল শুক্রবার। রাতে মিজান, রিজভী-২, হানিফ ও রাকিব এলো রিজভীর-১ বাড়িতে। বাকি ছিল মোমিনুল। রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাজির হয় মোমিনুল। শুরু হয় আড্ডাবাজি। রাত যত গভীর হয় আড্ডার মাত্রা ততোই বাড়তে থাকে। এরই মধ্যে রাত ১১টার দিকে রিজভী-২ মোমিনুলের মোটরসাইকেলটি দিয়ে পেট্রল কিনতে যায় এবং দ্রত ফিরে আসে।
এরপর রাত ১টার দিকে এক মেয়ের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে মোমিনুলকে নিয়ে তারা শহরের বিএসডিসি ফার্মে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর মোমিনুল জানতে চায় মেয়েটা কোথায়। এ সময় রাকিব জানায়, একজন নিয়ে আসতেছে। এরপর গল্প শুরু করে তারা। এ সময় বিজভী-১ পেছন থেকে মোমিনুলে গলায় চেইন দিয়ে চেপে ধরে। পরে রাকিব, মিজান, বিজভী-২, হানিফ দুই পাশ চেইনটি টেনে ধরে। মোমিনুল মাটিতে পড়ে গেলে তিন জন তাকে চেপে ধরি আর রিজভী-১ ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে দেয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় রিজভী-১। হত্যার পর আমরা মোটরসাইকেলটি নিয়ে চলে আসি।
পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর এভাবেই মোমিনুলকে হত্যার বিবরণ দেয় মিজান, রাকিব ও হানিফ।
প্রসঙ্গত : গত ৮ মার্চ সকালে সদর থানার পুলিশ শহরের বিএসডিসি ফার্মের পাশে টাঙ্গন নদী থেকে মোমিনুলের লাশ উদ্ধার করে। ওই দিনই পুলিশ বাদী হয়ে থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের নামে মামলা দায়ের করে।
মামলার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়। এরপর সদর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে মিজান, রাকিব ও হানিফকে গ্রেফতার করে।
বৃহস্পতিবার পুলিশ তাদের আদালতে হাজির করলে জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জুলফিকার আলী খানের কাছে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়। সব কিছু শুনে আদালত তাদের জেলে পাঠায়।
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন জানান, মোমিনুলের মোবাইল থেকে আসামিদের নম্বর পাওয়া যায়। এরপর নম্বর ট্র্যাক করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
তিনি জানান, প্রথমে হানিফকে ঠাকুরগাঁও শহরের বড় মাঠ থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নীলফামারী বাসস্ট্যান্ড থেকে রাকিবকে ও শহরের জগন্নাথপুর থেকে মিজানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাকি আসামিদেরও গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
- See more at: http://newsbookbd.com/display/newsdetails.php?t=%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A7%87+%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B2+%E0%A6%96%E0%A7%81%E0%A6%A8+%21+%E0%A7%A9+%E0%A6%9C%E0%A6%A8+%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%AA%E0%A7%87+%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%87+%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%B2+%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%AD%E0%A7%80+%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A6%BE+%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87&r=c6b8c8d762da15fa8dbbdfb6baf9e260&c=3404 .Yg4M83YE.dpuf