14/11/2021
লা তাহযান (অতীত নিয়ে কখনো হতাশ হবেন না)ঃ
প্রত্যেক মানুষের জীবনেই বলার মত কিছু না কিছু বিষাদমাখা গল্প থাকে । সে চোর হোক অথবা চুরির শিকার হোক, বিশ্বাস ঘাতক হোক কিংবা বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হোক, বিবাহিত অথবা অবিবাহিত, ধনী অথবা গরীব, স্বাস্থ্যবান অথবা দুর্বল । পৃথিবীর কোন একজন মানুষের ক্ষেত্রেও এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে না ।
এই বিষণ্ণতাবোধের মোকাবিলা যথাযথভাবে করা না গেলে তা ক্রমান্বয়ে বাড়তেই থাকে কারন বিষণ্ণতা অন্তরকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, শরীরকে দুর্বল করে দেয়, মানুষ কে সংকল্পচ্যুত করে ছাড়ে । অনেক মানুষকেই এটা বিরামহীন ক্রন্দন আর সীমাহীন উদ্বেগের কুচক্রে আটকে দেয় । এই বিষন্নতা থেকে বাচার জন্য তাকদীরের প্রতি সঠিক বিশ্বাস অত্যন্ত জরুরী।
কখনোই ভুলে যাবেন না যে, আপনার বিপদ স্বয়ং আল্লাহর ইচ্ছাতেই হয়েছে । আর সত্যিকার অর্থে উবুদিয়্যাহ ( আল্লাহর একজন দাস হওয়া ) বলতে তিনি আপনার জন্যে যা নির্ধারণ করেছেন, সেটা সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেওয়াকেই বোঝায় । আল্লাহ বলেনঃ
مَاۤ اَصَابَ مِنۡ مُّصِیۡبَۃٍ اِلَّا بِاِذۡنِ اللّٰهِ ؕ وَ مَنۡ یُّؤۡمِنۡۢ بِاللّٰهِ یَهۡدِ قَلۡبَهٗ ؕ وَ اللّٰهُ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ
আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন বিপদই আপতিত হয় না। যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, আল্লাহ তার অন্তরকে সৎপথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে সর্বজ্ঞ ।(সুরা তাগাবুন, আয়াত ১১)
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আলকামা (রহঃ) বলেন,”এই আয়াতটা এমন একজন ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হচ্ছে, যে নাকি কোনো বিপদে পতিত হয়, কিন্তু অনুধাবন করে যে এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত,এরপর সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহর সিদ্ধান্তের কাছে আত্মসমর্পণ করে ।( তাফসীর আত তাবারী )
প্রত্যেক বিপদই আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হয় এবং তাঁরই ইচ্ছাতেই সংঘটিত হয়। কেউ কেউ বলেছেন, এই আয়াত অবতীর্ণের কারণ হল কাফেরদের এই উক্তি, যদি মুসলমানরা সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকত, তাহলে দুনিয়াতে কোন বালা-মুসীবত তাদের উপর আসত না। (ফাতহুল ক্বাদীর)
সে যেন জেনে নেয় যে, তার উপর যে বিপদই এসেছে, তা আল্লাহর ইচ্ছায় এবং তাঁর নির্দেশে এসেছে। ফলে সে ধৈর্য্য ধরে এবং আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ভাগ্যের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে। (ইবনে কাসীর)
মনে রাখবেন এই কঠিন পরিস্থিতি আপনার জন্য পছন্দ করেছেন সেই পরম করুনাময় সত্তা যিনি আপনার মায়ের থেকেও বেশি আপনার প্রতি যত্নশীল । তিনি সেই মহাজ্ঞানী সত্তা, যিনি আপনাকে কল্পনাতীত উপায়ে সাহায্য করতে চান । নবিগন এটা অনুধাবন করতে পারতেন, তাই আমাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ঃ
وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَى رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِي
(এবং স্বরণ করুন আইয়ুবের কথা,যখন তিনি তার পালনকর্তাকে আহ্বান করে বলেছিলেনঃ আমি দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়েছি এবং আপনি দয়াবানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম)সুরা আম্বিয়া, আয়াতঃ৮৩।
চিন্তা করুন নবি ইয়াকুব (আঃ) এর কথা ,যিনি তার ছেলেকে হারিয়ে বলেছিলেন, فَاللّٰهُ خَیۡرٌ حٰفِظًا ۪ وَّ هُوَ اَرۡحَمُ الرّٰحِمِیۡنَ অতএব আল্লাহ উত্তম হিফাযতকারী এবং তিনিই সর্বাধিক দয়ালু ।