16/07/2026
কোনো নাম ছিল না তার, কোনো মালিকও ছিল না। তবু নিজের সবটুকু দিয়ে বাঁচিয়ে দিল ত্রিশটিরও বেশি শিশুর প্রাণ। ওড়িশার মায়ুরভঞ্জ জেলার ধিরাকুলা গ্রামে এক পথকুকুরের এমন আত্মত্যাগে চোখ ভিজেছে গোটা গ্রামের।
সোমবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ শ্রী জগন্নাথ শিশু বিদ্যা মন্দির স্কুলের প্রাঙ্গণে বসে ছিল ত্রিশটিরও বেশি প্লে-স্কুল পড়ুয়া। ঠিক তখনই একটি কুয়োর কাছ থেকে বিষধর সাপ এগিয়ে আসতে থাকে শিশুদের দিকে। বিপদ বুঝেই মুহূর্তের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে গ্রামের চেনা পথকুকুর "কালী।" সাপ আর শিশুদের মাঝখানে নিজেকে দাঁড় করিয়ে দেয় সে।
দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে ভয়ংকর লড়াই। বারবার ছোবল সহ্য করেও পিছু হটেনি কালী, শেষ পর্যন্ত সাপটিকে মেরেই ফেলে। কিন্তু ততক্ষণে মুখে বিষাক্ত ছোবল বসিয়ে দিয়েছে সাপ। বিষক্রিয়ায় লুটিয়ে পড়ে কালী, আর বাঁচানো যায়নি তাকে। তবে তার এই আত্মত্যাগে একটি শিশুও আঘাত পায়নি।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকে ভেঙে পড়ে গোটা গ্রাম।
যে কুকুরটাকে একদিন সবাই কেবল "পথের কুকুর" বলে চিনত, তাকেই মানুষের মতো মর্যাদা দিয়ে শেষ বিদায় জানায় গ্রামবাসীরা। সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে, ফুলের মালায় সাজিয়ে, শোকমিছিল করে তাকে সমাহিত করা হয়। গ্রামবাসীদের কথায়, "কালী আমাদের সন্তানদের প্রাণ বাঁচিয়েছে, আমাদের হৃদয়ে সে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।"
সাহসিকতা যে উর্দি পরে আসে না, চার পায়েও হাঁটতে পারে — কালীর এই গল্প যেন সেই সত্যিটাই আরেকবার মনে করিয়ে দিল।