11/05/2025
Mens Original Export || G U E S S ||
t- shirt
Size only M & XL.
🔥 || Available now at :📍Taraz : 01819-331449
🌆 𝒂𝒅𝒅𝒓𝒆𝒔𝒔:Shop No: 04,Road No:07, Paharika Abashik, Roufabad, Chittagong Bangladeshs.
পাশাপাশি তিনটা চায়ের দোকান। দুটোতে সারাক্ষণ টিভি চলে। নাটক, সিনেমা, নাচ গানে সরগরম থাকে সব সময়। কাস্টমারও থাকেন ভরপুর। মনে হয় যেন মৌচাকে মৌমাছি আঠার মতো বসে আছে। পেটালেও নড়াচড়ার নাম নেবে না। এতো কাস্টমার, এতো বেচা-বিক্রি!
এই দুইটা দোকানের ঠিক পাশেই আছে আরেকটি দোকান। সেই দোকানটা ছিল একজন নামাজি লোকের। দোকানে টিভি ছিল না। তাই কাস্টমারও তেমন ঢুকত না। এলাকায় যারা নামাজ পড়েন, দ্বীন পালন করেন, নাচ গান খুব একটা পছন্দ করেন না, তারা এই দোকানে আসতেন, বসতেন, চা খেতেন, এরপর চলে যেতেন।
দোকানদার লোকটাকে প্রায়ই দেখতাম বসে বসে জিকির করছে অথবা ওয়াজ শুনছে।
একে তো কাস্টমার কম, তার ওপর নামাজের সময় থাকত বন্ধ। ব্যাপারটা দেখে আমার খুব মায়া লাগতো। আমি ভবতাম দোকানটা ঠিকঠাক চালাতে পারবে তো? না কি লস খাবে? অবশ্য, মন বলত—'নিশ্চই পারবে। আল্লাহ নিশ্চই বরকত দেবেন। রিজিক তো আসে আসমান থেকে, না খেয়ে নিশ্চই তার রব তাকে রাখবেন না।'
তারপর দীর্ঘদিন আমার আর ঐ পথ দিয়ে যাওয়া হয়নি। অনেকদিন পর কোন একটা কাজে আমি ঐ পথ দিয়ে যাচ্ছিলাম। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে আমি ভাবছিলাম দোকানটা কী আছে নাকি নাই? কে জানে!
আমি যখন ঐ রাস্তার মুখে আসলাম, আমার চোখ ছানাবড়া। আমি অবাক হয়ে লক্ষ করলাম তিনটার মধ্যে মাত্র একটা দোকান আছে। বাকিগুলো তল্পিতল্পা গুটিয়ে ডেরায় ফিরে গেছে।
ডেরায় ফিরে যাওয়া দুইটা দোকান কোনটা জানেন? ঐ যে, সব সময় গান চলতো, নাচ হতো, সেই দুইটা দোকান। আর টিকে আছে সেই নামাজি লোকের দোকানটা। আল্লাহর রহমতে এখন ভালো চলছে। আগের মতোই কাস্টমার, এক দুইজন আসছে, চা খাচ্ছে, চলে যাচ্ছে। দোকানদারও তাদের চা দিচ্ছেন, বিস্কিট পানী দিচ্ছেন, আর ফাঁকে ফাঁকে আল্লাহর জিকির আজকার করছেন। ওয়াজ শুনছেন, নামাজের সময় এলে দোকান লাগিয়ে চলে যাচ্ছেন।
রিজিক আসলে আল্লাহর হাতে। টিভিওয়ালা দোকানগুলোতে ভিড় থাকত মূলত টিভি দেখার জন্য। এক কাপ চা খেয়ে কাস্টমাররা ঘন্টার পর ঘন্টা চাতক পাখির মতো ওই একটা জিনিসেই বুঁদ হয়ে থাকত। বাইরে থেকে মনে হত খুব বুঝি বেচাকেনা হচ্ছে! আসলে যেই লাউ সেই কদু। লাভের লাভ কিছুই হত না। মাঝখান দিয়ে কারেন্ট বিল বাড়তো, আর এসব ভিড়ের কারণে আসলেই যারা চা খেতে আসতো, তারা দোকানটাকে এড়িয়ে গিয়ে পাশের দোকানে চা খেয়ে চলে যেতো। যা হ'ত, হয়তো দোকান ভাড়া, ডিশ বিল, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস খরচ—এইসব দিতে দিতেই শেষ! বরকত তো ছিল না। অবশ্য দ্বীনদার ব্যবসায়িদের কোনোদিকেই লস নেই। এপারে যেমনই হোক; ওপারের ব্যাংকে তো জমা হচ্ছে প্রচুর!
একজন নামাজি ব্যবসায়ি আর বেনামাজির মধ্যে পার্থক্য এটাই।