05/05/2023
#সন্তানের জন্ম দিলে মেয়েরা মা হয়, মেশিন নয়
একটা মেয়ে তার শরীরের নানা রকম পরিবর্তন নিয়ে নয় মাসের একটা কঠিন জার্নি শেষে মা হয়। কিন্তু সেই কঠিন সময় তখনই কিন্তু শেষ হয়না। তার থেকে কঠিন সময় অতিবাহিত হয় সন্তান জন্মের পর। অার বেবি যদি সি সেকশনে হয় তাহলে তো কথা থাকেনা। কারন ঠিক তখন থেকেই শুনবেন, ' বাচ্চা জন্ম দেবার কষ্ট তুমি কি বুঝবে, বাচ্চাতো হল সিজারে। নরমালে হলে বুঝতে বাচ্চা জন্মের অাসল কষ্ট। ' অথচ একজন নরমাল ডেলিভারি হওয়া মায়ের কষ্ট একজন সিজারিয়ান মা না বুঝলেও একজন সিজারিয়ান মায়ের যে কি কষ্ট তা যাদের হয়েছে তারাই জানেন। তবুও শুকরিয়া রব মা হতে দিয়েছেন অালহামদুলিল্লাহ্।
এবার অাসি তার পরের গল্পে। যখন অাপনি অাপনার ব্যাথা যন্ত্রনা নিয়ে কাতরাচ্ছেন, ঠিক তখনই হাসপাতালে অাপনার কাছের কেউ অাপনাকে বলবে ওয়াশরুমে কেন একা যেতে পারছোনা। অামরা তো একাই গিয়েছি। সারা রাত জেগে যখন কাটা শরীর নিয়ে সদ্যজাত শিশুকে দুধ খাওয়াবেন অথবা তার কান্না থামাবেন, বিশ্বাস করুন কেউ বলবেনা যে তোমার কত কষ্ট হচ্ছে। সবাই বলবে, এতে এত কষ্টের কি অাছে মা হলে তো এগুলো করতেই হবে। অাপনার ক্লান্ত শরীর যখন রাত জাগার অারও ক্লান্তি নিয়ে দুর্বলতায় ভেঙে পড়বে তখন শুনবেন , এগুলো তো তুমি একাই কর অার তো কেউ করেনা।
এবার অাসি মজার কিছু কথায়। সন্তান জন্মের পর ব্রেষ্টফিডিং মায়েদের খুব ক্ষুধা লাগে, এটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু এখানেও কথা অাছে। অাপনি বেশি সবজি খেলে অাপনার বাচ্চার হাগু হবে। অাপনি শুকনা তরকারী খেলে বাচ্চার ক্ষতি। অাপনি গোশত খেলে বাচ্চার ক্ষতি। বাচ্চা কাদলো কেন? তো উত্তর অাসে মা অাজ সবজি বেশি খেয়েছে। বাচ্চা অার দুবার না পটি করে তিনবার করলো কেন? উত্তর অাসে মা অাজ গোশত খেয়েছে। তার মানে মা কিছু খেতে পারবেনা। অাবার খাবার কম খেলেও অপরাধ। কারন বেবি দুধ পাবেনা।
এবার অাসি অন্য কথায়। বাচ্চা জন্মদানের পর অাপনি জানতে পারবেন অাপনি বাদে অাপনার অাশেপাশের সবাই বাচ্চা পালার পিএইচডি করে অাসছে। যার বিয়েও হয়নি সেও অাপনাকে বাচ্চা পালা সম্পর্কে জ্ঞান দিবে। মনে হবে এ দুনিয়াতে অামিই কেবল অবুঝ, অার সারা পৃথিবী অার বাচ্চা পালা শেখার বিদ্যালয়।
মা হওয়ার মত এত বড় সুখের অনুভূতি একজন মেয়ের কিইবা অাছে। কিন্তু দিনশেষে একজন ছোট্ট বেবির মাও মানুষ। সারাটা দিন রাত সন্তানকে বুকের ভেতর অাগলে রাখে মা। দিনের পর দিন না ঘুমিয়ে বাচ্চাকে বুকের হাসি মুখে সুস্থ থাকবার যুদ্ধ করে মা। তাই ছোট বাচ্চার মায়েদের মানসিক সাপোর্ট খুব জরুরি। বাচ্চার মাকে ভালোবাসা দেখাতে হলে প্রতিদিন একটা ঘন্টা তার সন্তানের দায়িত্ব কেউ নিন, বলুন তুমি এবার একটু রেস্ট কর।
অামি বলছিনা সব মায়েরা ভুক্তভুগি। তবে যারা এমন পরিস্থিতিতে পড়েছে তারা জানে কতটা কষ্ট। তাই সব মায়েরা ভালো থাকুক তার সন্তানদের জন্য। জানিনা কিছু ভুল বলেছি কিনা। ভুল হলে ক্ষমা করবেন সকলে।